মাশরম্নম অত্যনত্ম পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও ঔষধিগুণ সম্পন্ন সবজি৷ এ সবজির বিশেষ দিক হচ্ছে এতে শর্করা ও চর্বির পরিমাণ খুব কম এবং মানুষের দেহের প্রয়োজনীয় আমিষ,, ভিটামিন ও খনিজ লবণের পরিমাণ বেশী৷ প্রতি ১০০ গ্রাম শুকনা মাশরম্নমে ২৫-৩৫ ভাগ উন্নতমানের আমিষ, ১০-১৫ ভাগ ভিটামিন ও খনিজ লবণ, ৪০-৫০ শর্করা ও আঁশ এবং ৪-৫ ভাগ চর্বি আছে, যা স্বাস্থের জন্য উপকারী৷ এছাড়া এটি ডায়াবেটিস, বস্নাড কোলেস্টেরল, মেদভুড়ি, উচ্চ রক্তচাপ, ভাইরাসগঠিত রোগ, কিডণী রোগ, যৌন রোগ, এইডস, ব্রেস্ট ও এনাল ক্যান্সারসহ অন্যান্য ক্যান্সার রোগ, জন্ডিস ও ডেঙ্গুজ্বরসহ বিভিন্ন জটিল রোগ পতিরোধক, নিরাময়ক বা নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে৷ মোট কথা মাশরম্নম মানব দেহের রোগ প্রতিরোধ মতা বৃদ্ধি করে৷ বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশে এটি জন প্রিয় দামী-মূল্যবান খাদ্য হিসেবে পরিচিত৷ঃ বাংলাদেশের আবহাওয়া ও পরিবেশ মাশরম্নম চাষের উপযোগী হাওয়ার কারণে এর চাষ ও ব্যবহার বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে৷

বাংলাদেশে মাশরম্নম ও চাষের ধারাহিকতা
বাংলাদেশে মাশরম্নম চাষের ইতিহাস রেশী পুরাতন নয়৷ উনিশ শতকের শেষের দিকে ১৯৭৬ সালে, তত্‍কালীন কৃষি উপদেষ্টা মরহুম হক থাইল্যান্ড থেকে সর্ব প্রথম স্ট্র মাশরম্নমের বীজ বাংলাদেশে আনেন এবং উদ্যান উন্নয়ন বোর্ডের (বর্তমান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খাদ্য শষ্য উইং) নির্বাহী পরিচালক জনাব এম, শহীদুল ইসলাম এর কাছে হসত্মানত্মর করেন৷ তিনি সে বীজ দ্বারা আসাদগেট উদ্যান নার্সারীতে চাষ এর মাধ্যমে বাঃলাদেশে মাশরম্নম চাষের সূচনা করেন৷


ল্যাবরেটরীটির উন্নয়ন করা হয় এবং সে সাথে মাশরম্নমের স্পণ উত্‍পাদনের জন্য কিছু প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়্ ১৯৮৫ সালে তত্‍কালীন জাপানী রাষ্ট্রদূত আনুষ্ঠানিকভাবে সেসব যন্ত্রপাতিসহ ল্যাবরেটরী বিল্ডিংটি বাংলাদেশ সরকারের কাছে হসত্মানত্মর করেন এবং বাংলাদেশ সরকারের পৰে তত্‍কালীন কৃষি সচিব জনাব এস এ মাহমুদ যন্ত্রপাতিসহ বিল্ডিংটি গ্রহণ করেন৷ সে সময় অত্র সেন্টারের দায়িত্ব ছিলেন সহকারী উদ্যানতত্ত্ববিদ কৃষিবিদ জনাব আব্দুর রকিব৷ তিনি অন্যত্র বদলী হয়ে যাওয়ার পর তার স্থলে ১৯৮৬ সালের ১লা নভেম্বর কৃষিবিদ জনাব সালেহ আহম্মদ অত্র সেন্টারে যোগদান করেন৷ সে বছরেই ১৫ই নভেম্বর জাপানী ওভারসীজ কো-অপারেটিভ ভল্যান্টিয়ারের মাধ্যমে জাপানীজ ভল্যান্টিয়ার কোজিমা মাসও জুনিয়ার এঙ্পার্ট হিসেবে অত্র সেন্টারে মাশরম্নমের কাজে যোগদান করেন৷ সে সময় তিনি জাপান থেকে কিছু নিম্ন তাপমাত্রার ওয়েস্টার মাশরম্নমের বীজ বাংলাদেশে আনেন৷

FAO অর্থায়নে ১৯৮৭ সালের মে মাসে দু'জন মাশরম্নম এঙ্পাটৃ ড.ফ্যাডিরিকো জেনী ও ড. মাজিওরিয়ানা বাংলাদেশে আসেন এবং সোবহানবাগ হর্টিকালচার সেন্টারের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের এক মাস মেয়াদী মাশরম্নম চাষের প্রশিণ দেন৷ সে সময় তাঁরা ইটালি থেকে উচ্চ তাপমাত্রায় চাষযোগ্য ওয়েস্টার gvkiæg Pleurotos sajor-caju--র বীজ আনেন৷ জাপানি কারিগরী সহায়তায় ১৯৮৮ সারেThe Bangladesh Mushroom Cultivation Pilot Project নামে মাশরম্নম চাষের উপর একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়৷ এ প্রকল্পের আওতায় ৭৫ ল ৭৫ হাজার টাকার মাশরম্নম স্পন উত্‍পাদনের জন্য যন্ত্রপানি সরবরাহ করে৷ ১৯৯০ সাল পর্যনত্ম এ প্রকল্পটি বাসত্মবায়িত হয়৷ ১৯৯৭-৯৮ সালে তত্‍কালীন সরকার মাশরম্নম চাষ উন্নয়নের উদ্যোগ নেন এবং রাঙ্গা মাটিতে প্রায় ৭.৫ কোটি টাকা ব্যায়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেন৷ মাননীয় কৃষি মন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী সে সময় ভারত থেকে স্ট্র ও ওয়েস্টার মাশরম্নমের বীজ সংগ্রহ করে অত্র সেন্টারে সরবরাহ করেন৷ ১৯৯৮ সারে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের আর্থিক সহায়তা বাংলাদেশে চাষ উপযোগী মাশরম্নমের জাতসমূহের উপর গবেষণা কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়৷ সে সময় ওয়েস্টার, ইয়ার ও শীতাকে মাশরম্নমের চাষ পদ্ধতি Standardization ও জারপস্নামে হিসেবে ২০টি জাত সংগ্রহ করে সংরৰণ করা হয়৷ ২০০১ থকে ২০০৩ সাল পর্যনত্ম কোন প্রকল্প সহায়তা না থাকায় মাশরম্নমের উন্নয়ন কাজে গতিশীলতা কমে যায়৷ এ মধ্যবতর্ী সময়ে সোবহানবাগ ও হর্টিকালচার সেন্টারের দায়িত্বে ছিলেন কৃষিবিদ আবুল বাশার ভূঁইয়া, কৃষিবিদ মাইদুর রহমান, কৃষিবিদ জাহিদুর রহমান, কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম পাটোয়ারী৷ ২০০২ সালের ১লা জানুয়ারী কৃষিবিদ শেখ মোঃ রম্নহুল আমীন সহকারী উদ্যানতত্ত্ববিদ হিসেবে অত্র হর্টিকালচার সেন্টারে যোগদান করেন এবং মাশরম্নমের কার্যক্রম উন্নয়নের জন্যত ৪.৭১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রসত্মাব করেন৷ ২০০৩-২০০৬ সালের জুন মাস মেয়াদী ৪.৭১ কোটি টাকার "মাশরম্নম সেন্টার উন্নয়ন প্রকল্প" নামে একটি প্রকল্প বাসত্মবায়িত হয় এবং তিনি প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন৷ উক্ত প্রকল্পের মাধ্যমে পুরাতন ল্যাবরেটরী ভবনটি সংস্কারসহ সম্প্রসারণ করা, মাশরম্নম প্রশিৰণ হল তৈরী ও ভূমি উন্নয়নসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম করা হয়৷ সে সময় মাশরম্নম চাষের উপর বিভিন্ন আঙ্গিকে আনুষ্ঠানিক প্রশিৰণ যেমন-তিনদিন ব্যাপী মাশরম্নম শিল্পোদ্যাক্তা প্রশিৰণ ও বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক প্রশিৰন কার্যক্রমসহ এলাকায় এলাকায় সভা সেমিনারের মাধ্যমে মাশরম্নমের ব্যাপক প্রচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়৷ এ প্রকল্পের সফল বাসত্মবায়নের কারণে সাধারণ জনসাধারণকে মাশরম্নম চাষে আগ্রহী করা সম্ভব হয় এবং মাশরম্নম শিল্পোদ্যোক্তা প্রশিৰণের মাধ্যমে বেসরকারী পর্যায়ে মাশরম্নম বীজ উত্‍পাদক তৈর িকরা হয়৷


পরবর্তীতে ২০০৬-২০০৯ সাল মেয়াদী ১৬.০০ কোটি টাকা ব্যয়ে " "মাশরম্নম সেন্টার উন্নয়ন প্রকল্প" নামে আরও একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয় এবং কৃষিবিদ শেখ মোঃ রম্নহুল আমীন দ্বিতীয় মেয়াদে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন৷ বাসত্মবিক অর্থে এ সময়ে মাশরম্নমের ব্যাপক সম্প্রসারণসহ মাশরম্নম শিল্পের উত্তোরণ ঘটে৷ এ প্রকল্পের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কৃমিন্ত্রণালয়াধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাভার সোবহানবাগস্থ মাশরম্নম চাষ কেন্দ্রকে বাংলাদেশের মাশরম্নম গবেষণা ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম পরিচালনা ও সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে জাতীয় মাশরম্নম উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কেন্দ্র হিসেবে রূপানত্মর করা হয়৷ এ প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে ৬টি বিভাগের ৬টি হর্টিকালচার সেন্টারকে মাশরম্নম সাব সেন্টার স্থাপন করা হয়৷ সাব সেন্টারসমূহ হথেলা শাসনগাছা-কুমিলস্না, ভাজন ডাঙ্গা-ফরিদপুর, খয়েরতলা-যশোর, মেহেদীবাগ-সিলেট, দিনাজপুর, সদর-দিনাজপুর ও হাটহাজারী চট্টগ্রাম৷ মাশরম্নম উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে জাতীয় মাশরম্নম উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কেন্দ্রে মাশরম্নম বিষয়ক গবেষণা, মাশরম্নম চাষ প্রশিৰণের মাধ্যমৈ দৰ জনশনত্মি তৈরী, মাশরম্নম ও মাশরম্নমজাত পণ্যের গুণগতমান নির্ধারণ ও নিশ্চিতকরণ কার্যক্রম, মাশরম্নম শিল্পোদ্যোক্তা সৃষ্টি, মাশরম্নম ও মাশরম্নমজাত পণ্যের গুণগতমান নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে দেশীয় ও আনর্ত্মজাতিক বাজার সৃষ্টিতে সহায়তা করাসহ সারাদেশে মাশরম্নম চাষ প্রযুক্তি সম্প্রসারণের ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালিত হয়৷ এ প্রকল্পের সফলতার মধ্যে উলেস্নখযোগ্য হল-সারা বিশ্বের জনপ্রিয় বিভিন্ন প্রকারের মাশরম্নমের মোট ১১৬টি জার্মপস্নাজম সংগ্রহ ও তাদের দেশোপযোগী চাষ পদ্ধতি উদ্ভাবণের গবেষণা, মাশরম্নম চাষের বিভিন্ন প্রযুক্তির উন্নয়ন, মাশরম্নমের ঔষধিগুণাগুণের উপর গবেষণাসহ বিভিণ্ন বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা৷ এসব গবেষণার ফলাফল প্রকাশের জন্য "বাংলাদেশ মার্নাল অব মাশরম্নম" নামে আনর্ত্মজাতিকমানের জার্নাল ও ত্রৈমাসিক মাশরম্নম বিষয়ক পত্রিকা প্রকাশ, মাশরম্নম ও মাশরম্নমজাত পণ্যের গুনগতমান নিশ্চিতকরণের স্ট্যান্ডার্ডসহ কোয়ালিটি কন্ট্রোল ও কোয়ালিটি এসু্যরেন্স ল্যাবরেটরী স্থাপন, অত্যাধুনিক ডরমেটরী ভবন স্থাপনসহ ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়৷ এর ফলেসারাদেশে ৩৫০ জন বেসরকারী মাশরম্নম বীজ উত্‍পাদক, ১৫টি বড়, মাঝারী ও ছোট আকারে মাশরম্নম ভিক্তিক খাদ্যশিল্প ও একটি ঔষধ শিল্প (ফুড সাপিস্নমেন্ট) স্থাপনসহ প্রায় ১ লৰ লোক সরাসরি মাশরম্নম চাষের সাথে সম্পৃক্ত হয়৷ এ প্রকল্পের সফল বাসত্মবায়নের কারণে বাংলাদেশের মাশরম্নম শিল্পেরন প্রতি বিদেশী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের দৃষ্টি আকর্ষণ করা সম্ভব হয়৷ উক্ত প্রকল্পের উলেলখিত সাফল্যকে দ্রম্নত সারাদেশে সম্প্রসারণের জন্য বর্তমান সরকার ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে "মাশরম্নম উন্নয়ন জোরদাকরণ" নামেমম আরও একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছেন, যা বর্তমানে চলমান৷ এ প্রকল্পের সফল বাসত্মবায়নের জন্য পূর্ব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কৃষিবিদ জনাব সালেহ আহমেদ প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন৷


বর্তমানে মাশরম্নম উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্পের মাধ্যমে জাতীয় মাশরম্নম উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কেন্দ্রের আওতায় সারাদেশে পূর্বের ৬টি সহ মোট ১৬টি সাব-সেন্টারের মাধ্যমে ব্যাপকভিত্তিতে মাশরম্নম কার্যক্রম শুরম্ন করা হয়েছে৷ নতুন সাব সেন্টারসমূহ হলো-ঝিলংজা-কঙ্বাজার, রহমতপুর-বরিশাল, আসামবসত্মি-রাঙ্গামাটি, কেওয়াটখালী-ময়মনসিংহ, বনানী-বগুড়া, পাঁচগাছিয়া-ফেনী, বালাঘাটা-বান্দরবান, বুড়িরহাট-রংপুর, দৌলতপুর-খুলনা ও কল্যাণপুর-চাঁপাইনবাবগঞ্জ৷